0

সালাত বা নামাজ মুসলমানের পরিচয়

ঈমানের পরই সালাতের স্থান। সালাত বা নামাজ ঈমানের প্রমাণ। পবিত্র কুরআনে বিরাশি বার নামাজ উল্লেখ আছে। সবচেয়ে বড় সুরা বাকারা এবং ছোট সুরা কাউসারেও নামাজ বিষয়ে উল্লেখ আছে। কুরআনে ত্রিশটি পারাতেই সালাত বা নামাজ সম্পর্কে আলোপাত করা হয়েছে। আল্লাহর কোনো নবী বা অলী বেনামাজি ছিলেন না। কুরআনে নামাজকে সালাত বলা হয়েছে। এ ছাড়াও সালাতকে রুকু, সেজদা, ইবাদত, যিকর ইত্যাদি নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সালাত শব্দের অর্থ হচ্ছে নামাজ, দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা, দরুদ, তাসবীহ ইত্যাদি। সালাত বা নামাজ হচ্ছে রুকু, কিয়ামসহ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে ও বিধি মতে কেবল আল্লাহরই উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি ইবাদত। মনে রাখতে হবে সালাত ছাড়া অন্য কোন ইবাদতের জন্য আজান নেই। সকল ইবাদত আল্লাহ পাক জমিনে ফরজ করেছেন কেবল ‘নামাজ মিরাজ রজনীতে আল্লাহর আরশে ফরজ করা হয়’।

এতেই নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-‘সে নামাজীদের জন্য দুর্ভোগ যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন ও গাফিল (মাউন ৪-৫) হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর জিকির থেকে উদাসীন না করে।’’ (মুনাফিকুন-৯) ‘‘নিশ্চয় মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ ফরজ করা হয়েছে” (কুরআন)। ‘‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা কর’’ (বাকারা)। ‘‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা রুকুর সেজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদত কর’’ (কুরআন)। ‘‘নামাজ প্রতিষ্ঠা কর আমার স্বরণার্থে’’ (কুরআন)। ‘‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও নিষিদ্ধ পাপ কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখে’’ (আনকাবুত-৪৫)।
প্রিয় পাঠক ঈমান হল আমলের মূল ফাউন্ডেশন। আর আমলের মধ্যে হজ্ব শিশুর মত নিষ্পাপ করে, যাকাত সম্পদকে পাক করে। রোজা দেহ ও মনকে পাক করে সোজা পথের পথিক করে, আর নামাজ সব পাপ হতে বাঁচিয়ে রাখে। সুতরাং প্রতিটি ইবাদতের উদ্দেশ্য রয়েছে। ‘‘নিশ্চয় যেসব নামাজি আল্লাহর ভয়ে নামাজ আদায় করে তারা সফলকাম’’ (কুরআন)। ‘‘বলুন নিশ্চয় আমার নামাজ, স্বীকৃতি কোরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ, আল্লাহরই সন্তুষ্টির জন্য, যিনি বিশ্ব প্রভু’’ (কুরআন)।

সুতরাং নামাজ বা সালাত কোন লৌকিকতার নাম নয় আধ্যাতিœকতার নাম। আমাদের প্রিয় নবী (সঃ) অসংখ্য বাণীতে সালাত সম্পর্কে ব্যাপক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘সালাত হচ্ছে জান্নাতের চাবি’’, ‘‘সালাত বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য নিরুপণকারী’’, ‘‘সালাত যে ব্যক্তি আদায় করে না, তার মধ্যে ধর্মনেই’’।

সালাত বিনষ্টকারী রূপে যে ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে যাবে, আল্লাহ তার অন্যান্য পুণ্য কাজে গুরুত্ব দেবেন না’’। ‘‘সালাত হল ধর্মের খুঁটি, যে তার প্রতিষ্ঠা করে সে দ্বীনকেই প্রতিষ্ঠা করে। যে তা নষ্ট করে, সে দ্বীনকেই ক্ষতি করে’’। ‘‘সালাত পুলসিরাতের বাতি হবে’’।

সালাতের হিসেব কিয়ামতে সর্বাগ্রে হবে’’। ‘‘সালাত হচ্ছে আমার চক্ষুশীলতা’’। ‘‘আল্লাহ পাকের সবচে প্রিয় আমল তিনটি- সময়মত নামাজ, পিতামাতার সেবা ও আল্লাহর পথে জিহাদ’’।

পাঁচবার গোসল যেমন শরীর পবিত্র করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুরূপভাবে নামাজীকে পাপ হতে পবিত্র করে’’।

এমন অসংখ্য হাদীস সালাতের গুরুত্ব প্রমাণ করে। সালাত হচ্ছে ইহ ও পরকালের সুখ স্বাচ্ছন্দ, সাফল্যের চাবিকাঠি। এর চেয়ে বড় কথা সালাত বা নামাজ মুসলমানের পরিচয়।

এখন আমরা সালাত বা নামাজ স¤পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব। সালাত বিভিন্ন প্রকারের রয়েছে। জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে পড়ে সপ্তাহে একবার সকল মুসলিম কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমায় সমবেত হন। এক বছরে দুইবার ঈদের বৃহত্তম সম্মিলনে ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন। এভাবে মুসলিমগন ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রদর্শন করেন। এত সুন্দর ব্যবস্থা অন্য কোন ধর্মে নেই। আসলে সালাত হল মুসলিম জীবনের প্রধান সঙ্গী। একজন মুসলিম সুখে-দুঃখে প্রয়োজনে আল্লাহর প্রিয় হতে অনেক সালাত আদায় করেন যা মহানবী (সঃ) এরই শিক্ষা যেমন তওবার নামাজ, বৃষ্টির জন্য এস্তেস্কার নামাজ আশা পুরণের জন্য হাজতের নামাজ, সূর্যগ্রহণ ও চন্দগ্রহণের নামাজ,তারাবীইর নামাজ,এস্তেখারার নামাজ, আওয়াবীন নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাকের নামাজ তাসবীহের নামাজসহ বিভিন্ন নামাজ। তবে আল্লাহর ফরজ নামাজসমূহ আদায় না করাই দোজখে যাওয়ার প্রধান কারণ হবে। ফরজ নামাজ তরফ কারী মুমিন ভাই নয়। নামাজ অস্বীকার ও নামাজকে ঠাট্টাকারী অবশ্যই মুসলিম নয়। নামাজ অবজ্ঞা ও অস্বীকারকারী মুসলিম নামধারীর শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তবে নামাজ অলসতাকারীর শাস্তি হানাফী মতে একবছর জেল ও বেত্রাঘাত। আজকাল অনেক মুসলিমই নামাজ ও ধর্ম কর্মকে প্রগতির অন্তরায় ও আভিজ্যাত্যের জন্য বাধা মনে করেন। এসব বর্নচোরা মুসলিমের কি শাস্তি হওয়া উচিৎ তা আলেমগন ভেবে দেখবেন। অবশ্য শাস্তি দেয়ার অধিকার কেবল রাষ্ট্রের। ইসলামী সরকারই এ বিধান কার্যকর করতে পারে। আমলে সালাত ব্যতীত কেউ আল্লাহর নৈকট্য লাভে সক্ষম হয় না। স্বয়ং নবী (সঃ) যিনি নিষ্পাপ ছিলেন নামাজে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তার দু’পা ফুলে যেত। নবী (সঃ) বলেন, ‘‘বান্দা যখন সেজদা দেয় যে একেবারে আল্লাহর কাছে চলে যায়’’।

যথার্থভাবে নামাজ আদায়ের মধ্যে যে স্বাদ রয়েছে তা কেবল সত্যিকার নামজীর বোঝে। শুধু রুকু সেজদার নাম নামাজ নয়। বুঝে শুনে ধীরে সুস্থে গভীরে প্রবেশ করে নামাজে কি পড়ছে তার মর্মাথ বোঝেনা। এজন্যই দেখা যায় অনেক নামাজীও সন্ত্রাস, নেশা, পাপাচার এবং ইসলামের বিপরীত জীবনে অব্যস্থ থাকেন। যা নামাজের সাথে সাংঘর্ষিক। নামাজ হচ্ছে কার্যকরী ওষুধ। যে নামাজ কথা বলে না ,জীবনে পরিবর্তন আনে না সে নামাজ গুরুত্বহীন । নবী (আঃ) ও সাহাবীগন ,অলী আল্লাহগন কি রূপে নামাজ আদায় করেছেন তা জেনে নেয়া প্রয়োজন। হুজুর সঃ এ জন্যই বলেন, ‘‘এমনভাবে এবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ অথবা আল্লাহ তোমাকে দেখছে’’ (মেশকাত)। এয়াকুব আলী রচিত ‘‘নামাজ’’ প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়, ‘‘নামাজ বিশ্বাসী হৃদয়ের আহাজারী দূর করে শুন্যতা পূর্ণ করে, নামাজ হৃদয়ের পরম আত্মীয়কে খুঁজে দেয়, ধ্যানে মজে যাওয়ার নাম নামাজ। অনন্ত অসীমের প্রেমে ডুব দেয়ার নাম নামাজ। নামাজ প্রাণের অনন্ত পিপাসা মিটিয়ে দেয়। প্রকৃত আনন্দ ও তৃপ্তির ঠিকানা পাওয়া যায় নামাজে। হৃদয়ের ব্যথা দূর করে নামাজ। আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্কের সেতুবন্ধন নামাজ। মানুষ আগুনের তৈরী তাই অহংকার করে এর প্রতিষেধক নামাজ। পানির তৈরি বলে লোভ করে এর প্রতিষেধক রোজা, মাটির তৈরী বলে কৃপণতা করে এর প্রতিষেধক যাকাত, বাতাসের তৈরি বলে পক্ষপাতিত্ব করে এর প্রতিষেধক হল হজ্ব। সুতরাং প্রতিটি এবাদতের গভীরে প্রবেশ না করলে তার স্বাদ লাভ করা যায় না। নামাজ হচ্ছে সবচে তৃপ্তিদায়ক ও স্বাদের ইবাদাত। আল্লাহ পাক সাত ব্যক্তিকে কিয়ামতে তার আরশের নিচে আশ্রয় দেবেন। তার মধ্যে সত্যিকার নামাজি একজন। নামাজ কবর হাশরের সাথী পুলসিরাতের বাতি। বেনামাজির চেহারা কবরে কিবলামুখী থাকবে না। প্রিয় নবী (সঃ) জামায়াতের দৃশ্য দেখে নামাজিদের একসাথে নামাজ পড়া দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, নামাজ আমার চোখের মনি। এন্তেকালের মুহুর্তে নবী (সঃ ) সালাত বা নামাজের বিষয়ে তিনবার করে নসিহত করেন। সালাত রুজিতে বরকত আনে, স্বাস্থের উজ্জলতা বাড়ায়, দূর্ঘটনা-দূর্ভাবনামুক্ত রাখে পরিবারে শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে, রোগ প্রতিরোধ করে কর্মক্ষমতা বাড়ায়, ঘুমে তৃপ্তি আনে, সুস্থ দেহ ও মন তৈরি করে নামাজ। নামাজের আযান শুনে শয়তান পালায়। আযানদানকারী কিয়ামতে উচ্চ শিরে দাঁড়াবে। আযান হল আল্লাহর আহবান, নামাজ ও কল্যানের জন্য ডাক। প্রতিদিন পাঁচবার এ আহ্বান নামাজের আবশ্যিকতা প্রমান করে। নামাজী ব্যক্তি ঈমানসহ মারা যায়, কবর আযাব মুক্ত থাকে, রিজিকের ভয় মুক্ত থাকে, ডান হাতে আমল পায় ও বিনা হিসাবে বেহেস্তী হয়। নবী ( সঃ ) সকল বিপদকালে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। মুলতঃ নামাজ সর্বাঙ্গেও মুসলমানের সহ্যিকার মুসলমান হওয়ার ট্রেনিং, নামাজ সর্বাঙ্গের শুকরিয়া, নামাজ নৈতিক, উন্নতির প্রধান তরিকা। পৃথিবীতে যত বিশৃঙ্খলা অন্যায় অঘটন হয় নামাজিরা ও সব কিছুতে কর্মই ছড়ায়। আল্লাহর সাথে যোগাযোগহীন পাপী বেনামাজিরাই সকল অনাচার অশান্তিও জন্য দায়ি এক জন নামাজি মানে একজন ভাল সুন্দর সৎ লোক। এর অন্যথায় হলে বুঝতে হবে তার নামাজ হচ্ছে না। নামাজ বান্দাকে ইসলাম মানতে ও প্রতিষ্ঠায় উজ্জবিত করে, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় না করতে শিক্ষা দেয়। নামাজ মানুষকে স্বাধীনতা সুখ দেয় আল্লাহ ছাড়া সকল মুখাপেক্ষিতা বর্জনে বাধ্য করে। নামাজ মানবিক, বিজ্ঞানসম্মত, যৌক্তিক। নামাজের কিছুই ক্ষতিকর নয়। নামাজিরা সবচে সুখি বলে আজ প্রমাণিত। নবী (সঃ) বলেন, ‘নামাজিদের জন্য অন্ধকারে আলোর সংবাদ দাও’।

নামাজ একতা, পবিত্রতা, সময়নাবর্তিতা শৃঙ্খলা, কর্মচঞ্চলতা, ও ধীরস্থিরতার শিক্ষা দেয়। নামাজ আল্লহার সর্বাপেক্ষা বড় ফরজ যিকির ও বান্দার মানসিক প্রশান্তির অসীলা। এ জন্য নবী (সঃ) বলেন, ‘নামাজির গুণাহ শীতকালে বৃক্ষপত্রের মত ঝরে যায়’’। ‘‘নামাজের একটি সেজদা পৃথিবী ও তাতে যা আছে তা হতেও উত্তম’’। ‘‘নামাজির নামাজ পড়ার ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহ খুশি হয়ে হাসেন’। ‘কবরে নামাজ মাথার কাছে দাঁড়াবে’। ‘কিয়ামতে বিভিন্ন প্রকার নামাজির মুখ তারা চাঁদ ও সূর্যের মত জ্বলবে’’।

যারা বেনামাজি ওরা কিয়ামতের সিজদাহ দিতে পারবে না। ফলে বেনামাজি বলে চিহ্নিত হবে। বোখারী শরীফে আছে নবী (সঃ) বলেন, ‘‘আমার ইচ্ছে হয় যারা নামাজে জামায়াতে যায় না তাদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিই’’।

মহিলারা জামায়াতে যাওয়া অব্যশ্যক নয়। ‘‘তাদের জন্য ঘরই নামাজের উত্তম স্থান’’ আল্লাহ মহিলাদের জন্য রহমত স্বরূপ ঋতুস্নাব জনিত কারণে বছরে সর্বোচ্চ চার মাস সর্বনিন্ম এক মাসেরও বেশী কাল নামাজ ক্ষমা করে দিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য অবস্থায় নামাজের জন্য কঠোর নির্দেশ এসেছে। নবী (সঃ) নামাজের সময়ে তাঁর স্ত্রীদের চিনতেন না, স্ত্রীগণও তাঁকে চিনতে পারতেন না। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ নামাজ অধিকাংশ মুসলমান পড়েন না। সাময়িক কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানিকতা পালন করাকে মুসলমান হওয়ার জন্য যথেষ্ট ভাবেন। মুসলমানদের প্রাত্যহিক জীবন শুরু হবে নামাজ দিয়ে শেষ হবে নামাজ দিয়ে। নামাজ ইসলামের ফটক। সূরা হুদ এর ১১৪ নং আয়াতে ও সূরা নিসার ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ নামাজ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এমন অনেক মুসলমান আছেন যারা নামাজ জানেন না। এমনকি জীবনেও নামাজ পড়েননি। তবে আমরা কি মুসলমান? আল্লাহ তায়ালা সত্যিকার মুমিন মুসলিম গড়ে ওঠার জন্য একটি মাস দিয়েছেন ওই মাসে রোজা ফরজ করেছেন। রোজা ফরজ করেছেন ‘‘তাকওয়া’’ অর্জনের জন্য। আর তাকওয়ার জন্য ঈমানের পর ১ম বৈশিষ্ট্য হল নামাজি হওয়া যা সূরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং রোজার উদ্দেশ্যও হল নামাজি হওয়া। যদি ও নামাজ এর উপর রোজা নির্ভরশীল নয় কিন্তু নামাজি না হলে রোজার ফল ও উদ্দেশ্য বঞ্চিত থাকতে হয়। যা অযৌক্তিক ও দুঃখজনক। রোজা ও নামাজের আধ্যাতিক সম্পর্ক রয়েছে যা এক মাস তারাবীহ পড়ার মাধ্যমে বোঝা যায়। যারা নামাজ জানে না বা জীবনেও পড়েননি তাদের জন্য রমজানের তারাবীহ নামাজের প্রশিক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণও বটে। সুতরাং রমজানকে আমরা ইসলাম শেখা ও নামাজি হওয়ার মাসও বলতে পারি। নামাজের কুরআন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে বান্দা নামাজ শেষে কুরআনের হুকুমের বিপরীত না চলেন। কুরআনের পক্ষে থাকেন। আল্লাহ নামাজকে যথার্থভাবে কায়েমের জন্য বলেছেন। অর্থাৎ বুঝে শুনে পড়তে হবে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে নামাজের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। নামাজ বাধ্যতামূলক করা মুসলিম দেশের সরকারের জন্য আল্লাহর নির্দেশ। যা কুরআনের সূরা হজ্বে উল্লেখ আছে। সূরা তা-হার ১৩২ নং আয়াতে বলা হয়েছে আর ‘‘তোমরা পরিবারকে নামাজের হুকুম কর এবং তুমি নামাজে অবিচল থাক’’।

সেহেতু নবী (সঃ) বলেন, ‘‘তোমাদের সন্তানের বয়স ৭ বছর হলে তাদের নামাজের নির্দেশ দাও, দশ বছর হলে নামাজের জন্য শাস্তি দাও এবং তাদের বিচানা পৃথক করে দাও। (আবু দাউদ) রুহ ও ….ঠিক না হলে সৎ মানুষ হয় না এ জন্যই নামাজ সু-সন্তান ও সৎ মানুষ হওয়ার আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ম। অনেক নামাজির সন্তান বখাটে সন্ত্রাসী ও পাপাচারী হয়। এর কারণ ওদের নামাজির শিক্ষা দেয়া হয়নি। তাই আসুন সুন্দর মানুষ সুখের সমাজ ও সমৃদ্বপূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে আমরা নামাজ বা সালাত প্রতিষ্ঠা করি নামাজিদের সাথে থাকি। শয়তান হতে সাবধান থাকি। প্রিয় পাঠক, শয়তান চায় না নামাজের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক.
লেখক,শিক্ষক,খতিব,ঐতিহাসিক ছুঁটি খাঁ জামে মসজিদ

কপি রাইট-:- দ্বি মাসিক সবুজের মেলা ২০০৬-২০১৪ ::পড়ুন:: লিখুন:: বিজ্ঞাপন দিন ::